মুশফিক-শান্তর দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে উড়ে গেল শ্রীলঙ্কা

সিলেট ডায়রি ডেস্ক;
  • প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০২৪, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১ মাস আগে

মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হাসান শান্তর দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে ৬ ইউকেটে হারাল বাংলাদেশ। মুশফিকের ৮৪ বলে ৭৩ রান এবং শান্তর ১২৯ বলে অপরাজিত ১২২ রানের ইনিংসে ভর করে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় টাইগাররা।

তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে সফরকারী শ্রীলঙ্কার দেওয়া ২৫৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। বুধবার (১৩ মার্চ) চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ২৫৫ রান সংগ্রহ করে সফরকারীরা।

ব্যাট হাতে দলের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন দলের কাপ্তান নাজমুল হাসান শান্ত। চাপের মুখে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে তুলে নিয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি। ১২৯ বলে ১৩ চার ও ২ ছক্কায় ১২২ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন তিনি। অভিজ্ঞ মুশকির রহিমও নট আউট ছিলেন। ৯১ বলে ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৮২ রান করেছেন তিনি।

ইনিংসের প্রথম বলেই বিদায় নেন লিটন দাস। দিলশান মাদুশাঙ্কার করা প্রথম বলেই বোল্ড হন তিনি। যার ফলে রানের খাতা খোলার আগেই নেই বাংলাদেশের এক উইকেট। লিটনের পর বেশিক্ষণ টেকেননি আরেক ওপেনার সৌম্যও। মাদুশঙ্কার শর্ট লেংথের বলে পুল করতে গিয়েছিলেন সৌম্য, টপ-এজে মিডউইকেটে ক্যাচ তুলে ফেরেন তিনি। ১৪ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকেই হারায় বাংলাদেশ। এরপর হৃদয় ও অধিনায়ক শান্ত মিলে জুটি গড়ার চেষ্টা চালালেও ভুল শট খেলে প্রমোদ মাদুশানের বলে বোল্ড হন হৃদয়। এরপর শান্তর সঙ্গে জুটি গড়ে অনবদ্য ৩৭ রানের ইনিংস খেলে দলীয় ৯২ রানে কুমারার বলে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলনে ফেরেন মাহমুদউল্লাহ।

মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে ৬২ বলে ৬৯ রানের পার্টনারশিপ গড়ে দলকে চাপমুক্ত করেন শান্ত। মাহমুদউল্লাহ আউট হলে মুশফিকের সাথে জুটি বাঁধেন অধিনায়ক শান্ত। এরপর শান্ত-মুশফিকের ১৬৫ রানের পার্টনারশিপ জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশের।

শ্রীলঙ্কার পক্ষে দিলশান মাদুশঙ্কা ৪৪ রানের বিনিময়ে তুলে নেন ২ উইকেট। ১টি করে উইকেট পান প্রমোদ মাদুশান ও লাহিরু কুমারা।

এদিন টস জিতে দারুণ শুরু পায় সফরকারীরা। প্রথম পাওয়ারপ্লেতে ৭১ রান তুলে ফেলা লঙ্কানরা ম্যাচে বড় রানের দিকেই এগোচ্ছিল। তবে তরুণ পেসার তানজিম হাসান সাকিবের মনে ছিল অন্য ভাবনা। নিজের দ্বিতীয় ওভারের পঞ্চম বলেই উইকেটের খোজে থাকা দলকে কাঙ্খিত সাফল্য এনে দেন তিনি। আভিস্কা ফার্নান্ডোকে (৩৩) কট বিহাইন্ড বানান তরুণ এই পেসার। আভিস্কার বিদায়ের পর আরেক ওপেনার নিশাঙ্কাও ফেরেন দ্রুতই। তিনিও তরুণ পেসার তানজিম সাকিবের পরের ওভারের প্রথম বলেই সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ দেন। ২৮ বলে ৫ চার ও ১ ছয়ে ৩৬ রান করেন তিনি।

চমক বাকি ছিল আরও। ত্রাস হয়ে ওঠা সাকিব নিজের করা পরের ওভারে ফেরান সাদিরা সামারাবিক্রমাকে। মাত্র ৩ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন সামারাবিক্রমা। টানা তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া লঙ্কানরা আসালাঙ্কা ও কুশাল মেন্ডিসের সতর্ক ব্যাটিংয়ে চাপ সামাল দেন। তাদের দুজনের ৪৪ রানের জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ যখন আবার লঙ্কানদের হাতে যেতে থাকে তখনই মিরাজের আঘাত। ৩৭ বলে ১৮ রান করা আসালাঙ্কাকে বোল্ড করেন তিনি।

এদিকে টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর সেরা খেলোয়াড় কুশাল মেন্ডিস ওয়ানডেতেও ভালো করেন। অর্ধশতক করা এই লঙ্কান অধিনায়ক ক্রমেই ভয়ঙ্কর হচ্ছিলেন। লিয়ানাগের সঙ্গে জুটি পৌঁছে যায় অর্ধশতকে। তবে সময়মত জ্বলে ওঠেন তাসকিন। ৭৫ বলে ৫ চার ও ১ ছয়ে ৫৯ রান করে শান্তকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন কুশাল মেন্ডিস।

উইকেটে এসেই তাসকিন আহমেদের ওপর চড়াও হয়েছিলেন হাসারাঙ্গা। তবে ১৩ রান করেই ফিরেন লঙ্কান অলরাউন্ডার। পরের ওভারে মাহেশ থিকসানাকেও ফেরান তাসকিন। আর ৬৯ বলে ৩ চার ২ ছয়ে ৬৭ রান করে শরিফুলের বলে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দেন লিয়ানাগে। শেষ দুই ব্যাটার হিসেবে প্রমোদ মাদুশান ও দিলশান মাদুশাঙ্কার উইকেটও নেন শরিফুল।

তানজিম সাকিব ৮.৪ ওভারে ৪৪ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন। ১০ ওভারে ৬০ রান ও ৯.৫ ওভারে ৫১ রান দিয়ে ৩টি করে উইকেট শিকার করেন তাসকিন ও শরিফুলও। বাকি উইকেটটি মেহেদী মিরাজের দখলে যায়।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি