বড়লেখার নারীশিক্ষা একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণে অনিয়ম

বড়লেখা প্রতিনিধি;
  • প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২০, ৯:৪০ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৪ বছর আগে

প্রায় ছয় মাস আগে ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এরপর ঢালাইয়ের উপর স্থাপন করা হয় রুফ টাইলস। এখনো ভবন হস্তান্তর করা হয়নি। এর আগেই কাজ সম্পন্ন হওয়া ছাদ চুইয়ে পড়ছে বৃষ্টির পানি। চুইয়ে পড়া জায়গা স্যাঁতসেঁতে হয়ে গেছে। কিছু স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে এগুলো ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই চিত্র মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার নারীশিক্ষা একাডেমি মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ের চার তলা নতুন ভবনের।

ভবন নির্মাণে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। অথচ বিদ্যালয়ের নতুন এই ভবন নির্মাণে সরকারের ব্যয় হচ্ছে ২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। বড় ধরণের অনিয়ম না হলে ঢালাই ও রুফ টাইসল ভেদ করে বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়ার কথা নয়। এমনটি বলছেন নারীশিক্ষা একাডেমি মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তারা জানিয়েছেন, ঢালাই ও রুফ টাইলস স্থাপনের কাজ শেষে পানি চুইয়ে পড়ার বিষয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নজরে আনলেও তারা আমলে নেয়নি।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর প্রধান অতিথি হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদ মো. শাহাব উদ্দিন ২ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বিদ্যালয় ভবনটির নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। কাজটি সম্পন্ন করছে মেসার্স রুসমত আলম নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মেসার্স রুসমত আলম নামের ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরুর পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আপত্তির মুখে একবার নিম্নমানের রড ফেরত নেয়। নিম্নমানের কংক্রিটও বদলানো হয় কয়েকবার। ভবনের কাজ শেষ পর্যায়ে। ভবনের ছাদ ঢালাই ও রুফ টাইলস স্থাপনের কাজে অনিয়ম হওয়া সম্পন্নের ৬ মাসের মধ্যে চতুর্থ তলার ছাদের বিভিন্ন স্থান চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ছে। বিষয়টি ঠিকাদারকে জানালেও তারা আমলে নেয়নি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে সরেজমিনে চতুর্থ তলা ওই ভবনের বারান্দাসহ প্রতিটি কক্ষের বিভিন্ন স্থানে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ার চিহ্ন দেখা গেছে। পানি পড়ার জায়গাগুলো স্যাঁতসেঁতে হয়ে গেছে। ছাদের ভেতরের দিকে কিছু জায়গায় ফাটল ছিল। এগুলো সিমেন্ট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। যাতে ফাটলগুলো দেখা না যায়।

নারীশিক্ষা একাডেমি মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ভবনের কাজে ঠিকাদার নিম্নমানের রড নিয়ে আসলে আমরা আপত্তি করায় তা একবার সরিয়ে নেন। নিম্নমানের কংক্রিটও ব্যবহার করেন। আপত্তির মুখে কিছু সরিয়ে নেন ঠিকাদারের লোকজন। ছাদ ঢালাই ও টাইলস ফিটিং এর পর ছাদ চুইয়ে পানি পড়তে থাকে। ঢালাই সম্পন্নের প্রায় ৬ মাস হয়ে গেছে। আমরা ঠিকাদারকে জানালেও এটা ঠিক হয়ে যাবে বলে তিনি আশ^স্থ করেন। কিন্তু কোনো সংশোধন করেনি। বৃষ্টি দিলেই পানি চুইয়ে পড়ে। পানি পড়ার চিহ্ন স্পষ্ট বুঝা যায়।

আলাপকালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক রুসমত আলম সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে বলেন, ‘ভবনে কি সমস্যা হয়েছে আমি দেখিনি। কাজ করলে কিছু ভুল হয়ে যায়। তারপরও যদি সমস্যা দেখা দেয়, তা ঠিক করে দেব।’

এব্যাপারে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ সহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন বলেন, ‘ঢালাইয়ের আগে রডসহ সব কিছু চেক করে দেওয়া হয়েছে। ঢালাইয়ের সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু পানি চুইয়ে পড়েছে এটা আমাকে প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ অবগত করেন নাই। এরপরও যদি ত্রুটি ধরা পড়ে অবশ্যই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় কাজ সঠিকভাবে করে দিতে হবে। ত্রুটিগুলো সংশোধন না করলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পরবর্তী কোনো রকম বিল দেব না।’

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি