বালাগঞ্জে শিক্ষা কর্মকর্তার কূটচাল : ঘুষ না দেয়ায় নিয়োগ বন্ধের অভিযোগ

সিলেট ডায়রি ডেস্ক;
  • প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৫২ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৪ বছর আগে

বালাগঞ্জে গহরপুর আব্দুল মতিন মহিলা একাডেমী প্রত্যন্ত অঞ্চলে এক যুগ ধরে নারী শিক্ষার দ্যুতি ছড়াচ্ছে। ২০০৮ সাল প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ২০১৯ সালে এমপিওভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক ফলাফলও সন্তোষজনক। ২০২০সালে প্রথম বারের মতো এই প্রতিষ্ঠানটি এসএসসি পরীক্ষার সাব-সেন্টার হিসেবে নির্বাচিত হয় এবং সুষ্ঠভাবে পরীক্ষা গ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

সম্প্রতি কথিপয় স্বার্থন্বেষী মহল এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন বলে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ অভিযোগ তুলেছেন। ২১সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পরিচালনা কমিটির সভাপতি গোলাম মোস্তফা স্বাক্ষরিত একটি লিখিত আবেদনে একাধিক অভিযোগের ফিরিস্তি তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ঠ বিভিন্ন দফতরে প্রেরণ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রধান শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জুবের আহমদ ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর দু’টি পত্রিকায় (জাতীয় ও স্থানীয়) বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক পদে পর্যাপ্ত আবেদন না আসায় কর্মচারী পদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতিনিধি হিসেবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলামকে নির্ধারিত তারিখে নিয়োগ পরীক্ষা বোর্ডে উপস্থিত থাকতে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত হতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে বারবার অনুরোধ করা হলেও তিনি অনিহা প্রকাশ করেন। পরবর্তী সময়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার অনুরোধ করলে শিক্ষা কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে বড় অঙ্কের টাকা ঘুুষ দাবি করেন। শিক্ষা কর্মকর্তার অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া দেননি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। এতে শিক্ষা কর্মকর্তা ক্ষিপ্ত হয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ২০মে সিলেট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দেন। এরই মধ্যে কর্মচারী নিয়োগের নির্ধারিত তারিখ চলে যায়।

চলতি বছরের ৩০মে প্রতিষ্ঠানের সভাপতির নিকট শিক্ষা কর্মকর্তা প্রেরিত চিঠিতে উল্লেখ করেন- এমপিওভুক্ত ২জন শিক্ষকের মধ্যে জেষ্ট্যতার ভিত্তিতে একজনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদানের জন্য। সেই আলোকে পরিচালনা কমিটি সভা আহবান করেন। ওই সময়ে শিক্ষক মো. শাহিন ছুটি ছাড়া একাডেমীতে অনুপস্থিত ছিলেন। অন্যজন জগদীশ চন্দ্র রায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে বিষয়টি অবগত করা হয়। পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চলতি বছরের ২০জুলাই পুনরায় প্রধান শিক্ষক ও কর্মচারী পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দু’টি পত্রিকায় (জাতীয় ও স্থানীয়) প্রকাশ করেন। আবারও নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করে নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাকে অনুরোধ করা হয়। তখন শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন- ‘ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উপস্থিতিত থাকলে তিনি নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত হবেন না। এমনকি ২০২০ সালের উপবৃওির তালিকাসহ জুবের আহমদের স্বাক্ষরকৃত কোনো কার্যক্রমের অনুমোদন দিবেন না তিনি।’
লিখিত অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, বিগত দিনে বিভিন্ন সময় প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও এমপিওভুক্ত না থাকায় শিক্ষক- কর্মচারী পদে আবেদন আসেনি। ২০১৫ সালে পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সহকারী শিক্ষক পদে জুবের আহমদকে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রধান শিক্ষক পদটি শূন্য থাকায় ২০১৮সালে তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করে পরিচালনা কমিটি।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণের পর তার স্বাক্ষরে শিক্ষা অফিসে ২০১৮-১৯ সালের উপবৃত্তির তালিকা প্রেরণ, এনটিআরসিএ-তে শূন্য পদের তালিকা প্রেরণ, শিক্ষক নিয়োগ ও যোগদান সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। তার স্বাক্ষরে-ই ২০১৮ সালে নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিও’র আবেদন এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে স¦ীকৃতির জন্য শিক্ষাবোর্ডে আবেদন করা হয়।

এছাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ২০১৯সালে পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিনি সচিবের দায়িত্বও পালন করেন। শিক্ষা বোর্ড থেকে এই কমিটি অনুমোদন পায়। এমপিওভুক্ত পরবর্তী সকল তথ্যাদি শিক্ষা মন্ত্রালয়ে প্রেরণ করেন তিনি। তার দায়িত্বকালে ২০২০ সালে প্রথম বারের মতো এই প্রতিষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষার সাব-সেন্টার হিসাবে নির্বাচিত হয় এবং সুষ্ঠভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

এমনকি তার স্বাক্ষরে এনটিআরসিএ শিক্ষকদের এমপিওকরণ হয়। চলতি বছরের ২ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানের সভাপতির নিকট প্রেরিত শিক্ষা কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত চিঠিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জুবের আহমদকে অবৈধ-অশিক্ষক বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি অবৈধ প্রধান শিক্ষক হলে দির্ঘদিন প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমগুলো তার স্বাক্ষরে কীভাবে কার্যকর হলো? ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে তার স্বাক্ষর সম্বলিত প্রতিটি কার্যক্রমই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের স্বাক্ষরে অনুমোদিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে শিক্ষা কর্মকর্তার নানা অনিয়ম দুর্নীতির বিষয় উল্লেখ করে চলতি বছরের ১৭ই মে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সিলেটের উপপরিচালকের নিকট লিখিত আবেদন ও অভিযোগ দেয়া হয়েছিল।

প্রতিবাদ ও নিন্দা: এদিকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জুবের আহমদের বিরুদ্ধে ১৭ সেপ্টেম্বর কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ১৮ সেপ্টেম্বর সিলেটের একটি স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ।

২১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পরিচালনা কমিটির সভাপতি গোলাম মোস্তফা স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে প্রেরিত এক প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়েছে- শিক্ষা কর্মকর্তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কথিত সংবাদকর্মীদের কাছে ভুয়া তথ্য সরবরাহ করায় জুবের আহমদের বিরুদ্ধে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তা- সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। শিক্ষা কর্মকর্তার এধরনের অপপ্রচার ও কটুক্তি একজন শিক্ষককে অসম্মান করার সামীল। এতদিন পর শিক্ষা কর্মকর্তা কেনো ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে অবৈধ বলছেন? শিক্ষা কর্মকর্তার এরকম ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যাচার মুর্খের বুলি ছাড়া বৈ কিছু নয়। ব্যক্তি স্বার্থ হাছিলে ব্যর্থ হয়ে তিনি শিক্ষক-কর্মচারী নিযোগ পরীক্ষা বন্ধ করে শিক্ষার ব্যাঘাত ঘটিয়ে প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের কূটচালে লিপ্ত রয়েছেন বলে আমরা মনে করছি।

এবিষয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম টাকা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিয়োগ পাওয়া কোনো শিক্ষক কোনো প্রতিষ্ঠানেরই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন না।

প্রতিষ্ঠানের সভাপতিকে চিঠি দিয়ে আমি একথা জানিয়ে দিয়েছি। বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রমাণিত হচ্ছে আপনি তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবিষয়টি জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান।

 

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি