দেহরক্ষীসহ এমপি সেলিম পুত্র কারাগারে

সিলেট ডায়রি ডেস্ক;
  • প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২০, ১০:৩৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৪ বছর আগে

নৌবাহিনী কর্মকর্তাকে মারধরের মামলায় সংসদ সেলিম পুত্র বরখাস্ত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফান ও তার দেহরক্ষী জাহিদকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার বিকেলে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. জিয়াউর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে একই মামলায় দুদিনের রিমান্ড শেষে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই মবিনুল হক তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে জামিন আবেদন খারিজ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে গত ১ নভেম্বর তাদের দুজনের দুদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এর আগে একই মামলায় গত ২৮ অক্টোবর আদালত তাদের দুজনকে তিন দিন করে রিমান্ডে দিয়েছিলেন।

গত ২৬ অক্টোবর সকালে সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফান সেলিম, তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদ, এ বি সিদ্দিক দিপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাত দু-তিনজনকে আসামি করে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফ আহমদ খান বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন।

উল্লেখ্য, রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে ধানমণ্ডিতে কলাবাগান ক্রসিংয়ের কাছে ঢাকা- ৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমের গাড়ির সঙ্গে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমেদ খানের মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লেগেছিল। এরপরই গাড়ি থেকে ইরফান সেলিমসহ তার লোকজন নেমে লেফটেন্যান্ট ওয়াসিম নামের ওই কর্মকর্তাকে বেদম পিটিয়েছেন। রাত সোয়া ১০টার দিকে সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো গাড়ি ও নৌবাহিনীর কর্মকর্তার মোটরসাইকেল ধানমণ্ডি থানায় জব্দ করা হয়।

সোমবার সকাল ৮টায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ধানমণ্ডি থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে দুপুরে ইরফানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। ওইদিন পুরান ঢাকার তার বাসায় অভিযানও পরিচালনা করে র‌্যাব। অভিযানে ৩৮টি ওয়াকিটকি, পাঁচটি ভিপিএস সেট, অস্ত্রসহ একটি পিস্তল, একটি একনলা বন্দুক, একটি ব্রিফকেস, একটি হ্যান্ডকাফ, একটি ড্রোন এবং সাত বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে।

কাউন্সিলর ইরফান সেলিম ও তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদকে কারাগারে পাঠান র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার রাতেই তাদের কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে, অবৈধ ওয়াকিটকি রাখার দায়ে ছয় মাস ও বিদেশি মাদক রাখার দায়ে ছয় মাস করে মোট এক বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী জাহিদকে। নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর এবং বাড়ি তল্লাশির পর র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত এক বছরের কারাদণ্ড দেয়ায় ইরফানকে কাউন্সিলরের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি