জাফলং পর্যটন স্পটে কাশফুলের নরম ছোঁয়া

হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট;
  • প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৯:১৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৫ বছর আগে

আমাদের ছোট নদী চলে আঁকে বাঁকে বৈশাখ মাসে তার, হাঁটু জল থাকে। পার হয়ে যায় গরু, পার হয় গাড়ি দুই ধার উঁচু তার, ঢালু তার পাড়ি। চিকচিক করে বালি, কোথা নাই কাদা একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা।

কবি রবি ঠাকুরের কবিতায় গ্রাম বাংলার প্রকৃতি, নদনদী, কৃষকের জীবন-জীবিকা, কিশোর ছেলেদের দুরন্তপনা অত্যন্ত চমৎকার ভাবে ফুটে উঠেছে। ফুটে উঠেছে শরৎকালের কাশফুলের কথা। গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহ আষাঢ়-শ্রাবণ খরতাপ পেরিয়ে প্রকৃতিতে যখন শরৎ কাল আসে তখন কাশফুলই জানিয়ে দেয় তার আগমনী বার্তা। কবির মতো এই শুভ্র কাশফুল দেখার ইচ্ছা হয়তো অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু নগরায়নের যুগে হারিয়ে যাচ্ছে কাশফুল, সঙ্গে শরতের স্নিগ্ধতাও।

 

ঋতু অনুসারে ভাদ্র-অশ্বিন মাস জুড়ে শরৎকালের রাজত্ব। নিকট অতীতেও দেখা গেছে, শরৎকাল এলেই গ্রাম-বাংলার ঝোপ-ঝাড়, রাস্তা-ঘাট ও নদীর দুই ধারসহ আনাচে-কানাচে কাশফুলের মন মাতানো নাচানাচি। কাশবনের ফুলগুলো দোল খেতো বাতাসে। গলাগলি হতো একটার সাথে আরো একটার।এ সময় অজান্তেই মানুষের মনে ভিন্ন রকম আনন্দের ঝিলিক বয়ে যেত। শরৎ মানেই স্নিগ্ধতা। প্রকৃতিতে শরৎ মানেই নদীর তীরে তীরে কাশফুলের সাদা হাসি।

সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং পর্যটন কেন্দ্রের পিয়াইন নদী ঘেঁষে সংগ্রামপুঞ্জির মায়াবী ঝর্ণার খাসিয়া পুঞ্জির নিচে সৃষ্টিকর্তার অপার মহিমায় প্রাকৃতিক ভাবে জন্মানো কয়েক একর জায়গা জুড়ে সাদা কাশফুল মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে জাফলং পর্যটন কেন্দ্রে ঘুরতে আসা পর্যটক ও দর্শনার্থীদের মাঝে। এমনিতে গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত সব কয়টি পর্যটন কেন্দ্রের মধ্যে জাফলং এর সৌন্দর্য অতুলনীয়, যার জন্য বিশেষজ্ঞরা জাফলং পর্যটন কেন্দ্রকে বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত করেছেন। প্রাকৃতিক ভাবে জন্মানো সাদা কাশফুল জাফলং এর সৌন্দর্য আরো বহু গুণে বাড়িয়ে দিয়েছে এবং পর্যটক পিয়াসীদের কাছে টানছে। কথায় আছে প্রকৃতি কখনো ঠকায় না একদিকে ক্ষতি করলেও অন্যদিকে পুষিয়ে দেয়। সংগ্রামপুঞ্জি মায়াবী ঝর্ণায় এখন পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ সাদা কাশফুল। মায়াবী ঝর্ণায় পানি না থাকলেও আগত পর্যটকদের সেই অভাবটা পূরণ করছে নীল আকাশের নীচে রোদ আর মেঘের মিতালীতে, আদ্র বাতাসের গলাগলিতে দাঁড়িয়ে থাকা এই কাশফুল। একটু দূর হতে দেখলে মনে হবে বরফ জমেছে, নতুবা মনে হবে সাদা বক পাখিদের অভয়ারণ্য।

চমৎকার মেঘের ঋতু শরতের আকাশ থাকে নীল আর ঝকঝকে পরিস্কার। ওই আকাশের মাঝে টুকরো টুকরো সাদা মেঘ ভেসে বেড়ায়। সবুজ প্রকৃতিতে বাতাসের সঙ্গে খেলা করে সাদা কাশফুল দর্শনার্থীদের রশদ যোগাচ্ছে। সবুজ আর সাদা দু’টিই শান্তির প্রতিক। আর এই দুইটি ঘিরেই কাশফুল। তাই খুব সহজেই এটি মানুষের মনকে সাজিয়ে তোলে। যা দেখে মুগ্ধ হয়ে উঠছে দর্শনার্থীরা। কাশফুলকে ঘিরে দর্শনার্থীদের পদচারণা ঘটে। স্মৃতি হিসেবে সবাই ক্যামেরায় ধারণ করে কাশফুলের ছবি। নিজেদের ছবি তোলাও বাদ যায় না। বন্ধুমহল, স্বামী-স্ত্রীসহ অনেককেই কাশফুলের সঙ্গে ছবি তুলতে দেখা গেছে। আবার তরুণীরা গাছ থেকে ছিঁড়ে কাশের গোছা সঙ্গে করেও নিয়ে যায়।

কাশবনের ব্যবহার বহুবিধ। চারাগাছ একটু বড় হলেই এর কিছু অংশ কেটে গরু-মহিষের খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা যায়। কাশ দিয়ে গ্রামের বধূরা ঝাঁটা, ডালি, দোন তৈরি করে থাকে। আর কৃষকরা ব্যবহার করে ঘরের ছাউনি হিসেবে। কিন্তু শহরের যান্ত্রিক জীবনে এই রূপ দেখা কঠিন হয়ে দাড়ায়!

জাফলং ইনচার্জ ইউনিটের ওসি রতন শেখ জানান, কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে কাশবন। এখন গ্রাম-বাংলায় বিচ্ছিন্নভাবে থাকা যে কয়টি কাশবন চোখে পড়ে সেগুলোও হারিয়ে যাচ্ছে। সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে সেখানে এখন তৈরি হচ্ছে মৌসুমী ফসলের ক্ষেত। নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা শহরগুলো এভাবেই শরতের সৌন্দর্যকে শুইয়ে দিচ্ছে সাদা কাফনের ভেতরে। তবে এখানে প্রতিবছরই প্রাকৃতিকভাবে কাশবন জন্মায়। জাফলং আসা পর্যটকর ও দর্শনার্থীরা মায়াবী ঝর্ণা, জাফলং পর্যটন কেন্দ্র এবং এই কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে।তিনি বলেন, যারা জাফলং আসলো কাশবন দেখলোনা তারা সৌন্দর্যের অনেক কিছু মিস করলো। তিনি আরো জানান, জাফলং পর্যটন কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও সেবার দায়িত্বে থাকা টুরিস্ট পুলিশ সদা তৎপর। পর্যটকদের যেকোনো সমস্যায় টুরিস্ট পুলিশের সরকারী নাম্বারে কল দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি