চুলায় রান্না নিয়ে শিশু রাহুলকে হত্যা : আদালতে পূর্বতীর স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক ;
  • প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল ২০২২, ৮:২৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২ বছর আগে

সিলেটে চুলায় রান্না করা নিয়ে মায়ের সঙ্গে ঝগড়ার জেরে ৩ বছরের শিশু রাহুলকে হত্যা করেন প্রতিবেশী নারী পূর্বতী। তিনি রাহুলকে (৩) হত্যা করে একটি স্যুটকেসের মধ্যে ভরে খাটের নিচে রেখে দেন। লাশটি পচে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হলে সোমবার (১৮ এপ্রিল) ভোররাতে লাশটি বাঁশঝাড়ের মধ্যে ফেলে দেন।

মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) সিলেট মেট্রোপলিটন বিচারক সুমন ভূঁইয়ায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেন ঘাতক সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানার শামারচর (খাসিয়াহাটি) গ্রামের দীগেন্দ্র দাসের স্ত্রী পূর্বতী রানী দাস (৩২)।

এমন তথ্য নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শিপলু চৌধুরী বলেন, ‘১৬৪ ধারায় পূর্বতী আদালতে তার দোষ স্বীকার করেছেন। তিনি রান্না করা নিয়ে রাহুলের মায়ের সাথে ঝগড়া করেন। তাছাড়া স্বামী দীগেন্দ্র দাস মাদক মামলায় জেলে থাকায় দুই শিশু সন্তান নিয়ে মানসিক বিপর্যস্ত হয়ে রয়েছেন। সব কিছু মিলে তিনি ডিপ্রেশন থাকায় এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন আদালতকে জানিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, গত শনিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুর থেকে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর গ্রামের রুবেল দাসের শিশু ছেলে রাহুল দাসকে (৩) নিখোঁজ হন। আশপাশ এলাকায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেও বাচ্চাটিকে পাওয়া যায়নি। ওইদিনই স্থানীয় জালালাবাদ থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন রাহুলের বাবা রুবেল। নিখোঁজের ২ দিন পর সোমবার সকালে সিলেট নগরের মদিনা মার্কেট এলাকার কালিবাড়ি সবুজবাগ আবাসিক এলাকার এ-ব্লকে বাবুল দেবের কলোনির পাশের বাঁশঝাড়ে বাচ্চাটির লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করে পূর্বতী রানী দাসকে আটক করে। পূর্বতী রানীর তথ্যের ভিত্তিতে পরে উদ্ধার করা হয় হত্যাকাণ্ডের পর লাশ গুম করে রাখার ব্যবহৃত স্যুটকেসসহ বেশ কয়েকটি আলামত।

এ ঘটনায় রাহুলের বাবা বাদি হয়ে সিলেটের জালালাবাদ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে এ মামলায় শিশু রাহুলের ঘাতক পূর্বতী রানী দাসকে গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে তুললে ঘাতক পূর্বতী রানী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন।

জালালাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর বিষয়টি তদন্তে নেমে প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পারে গত শনিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুর ১টায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করে একটি স্যুটকেসের মধ্যে ভরে খাটের নিচে রেখে দেন পূর্বতী দাস। তবে লাশটি পচে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হলে সোমবার ভোররাতে লাশটি কলোনির পার্শবর্তী বাঁশঝাড়ের মধ্যে ফেলে দেন তিনি। আজ আদালতে পাঠালে সে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

নিহত শিশুর পিতা রাজমিস্ত্রি রুবেল দাস ছেলে হত্যাকারীদের ফাঁসি চান।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি