একজন জন বারকির খোঁজে উজ্জ্বল মেহেদী

তায়েফ আহমদ চৌধুরী;
  • প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০২৩, ৯:২৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১ বছর আগে

“ভাই,তোমার উজ্জ্বল ভাইয়ের নতুন একটা বই বইমেলা থেকে তোমার জন্য নিয়ে আসছি।পড়ে দেখ কি অদ্ভুত একটা নাম বইটার” সিলেট বন্ধুসভার ছোট ভাই ইয়াহিয়ার কথাটি শুনে বিছানায় শোয়া থেকে উঠে বসলাম।

আমার অতি প্রিয়,শ্রদ্ধার আর ভরসার একজন মানুষ মেহেদী, উজ্জ্বল মেহেদী ভাই।প্রায় দেড় যুগ আগে উজ্জ্বল ভাইয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন মুক্ত মনের মানুষ তৈরীর কারিগর, নদ-নদী ও পরিবেশ প্রেমিক আব্দুল করিম কিম ভাই।

অতি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে উজ্জ্বল মেহেদি’র জলোপাখ্যান সিরিজের প্রথম বইটি জলজীবিকার জলোপাখ্যান “বারকি,জন বারকি”।খুবই আনন্দিত হয়ে নতুন বইয়ের মলাট উল্টিয়ে সুঘ্রাণ নাকে নিলাম।বইপড়ার এই স্বর্গীয় তৃপ্তি ডিজিটাল ভার্সনে বা অনলাইনে পড়ে পাওয়া যায় না। চমৎকার সাদা ব্যাকগ্রাউণ্ডে কালো বর্ণের নামের সাথে জলের উপর ভাসতে থাকা বারকি নৌকার অপূর্ব জলছবি প্রথম দেখাতেই যে কারো ভালো লাগবে।সেইসাথে লাল বৃত্তের মত উদীয়মান সূর্য আমার মনে নতুন প্রভাতের প্রথম আলোর মত বইটি পড়ার জন্য উদগ্রীব করে তুলে। মলাট খুলে জানতে পারলাম উজ্জ্বল মেহেদী তাঁর বহুদিনের কর্মক্ষেত্রের পর্যবেক্ষণ, অভিজ্ঞতা এবং শৈশব-কৈশোর আর তারুণ্যের দিনগুলির সাথে মিশে একাকার হওয়া হাওড়, নদী,নৌকা, জল আর যাপিত জীবনের উপখ্যান নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী এবং বৈচিত্র্যময় উপাদানে ভরপুর, কাহিনীনির্ভর একটি জলোপাখ্যান সিরিজ প্রকাশ করতে চলেছেন যার প্রথমটি জলজীবিকার উপোখ্যান “বারকি,জন বারকি”।

এরপর আমরা ধারাবাহিক ভাবে তাঁর লেখনী থেকে পাব জলজোছনার জলোপাখ্যান,জলপতির জলোপাখ্যান,জলপ্রকৃতির জলোপাখ্যান,জলযুদ্ধের জলোপাখ্যান।অনন্ত আশা আর একবুক প্রত্যাশা নিয়ে চাতক পাখির মতো আগামী বই গুলোর জন্য অপেক্ষায় রইলাম।

এবারে আসা যাক আমার আলোচিত “বারকি,জন বারকি” জলোপাখ্যানটির প্রসঙ্গে।বইটি প্রকাশ করেছেন স্বনামধন্য প্রকাশনী সংস্থা “চৈতন্য”।প্রচ্ছদ অংকন করেছেন দেশবরেণ্য প্রচ্ছদশিল্পী,সুনামগঞ্জের সুসন্তান ধ্রুব এষ।

‘বারকি’ চিত্র অঙ্কন করেছেন প্রতিভাময় শিল্পী অরুপ বাউল যার শিল্পশৈলী এবং নান্দনিকতা সর্বজনবিদিত।অন্যতম আকর্ষণীয় দিকটি হল উক্ত জলোপাখ্যানটির বিভিন্ন স্থান,ঘটনা ও চরিত্রের সচিত্রকরন করেছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশু শিল্পী নওশীন আজিজ।এই সচিত্রকরন বইটিতে একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে নিঃসন্দেহে।বইটির সর্বস্বত্ব প্রদান করা হয়েছে শ্রদ্ধেয়া ভাবি মিসেস নাহিমা সুমির নামে।সবচেয়ে ভালো লেগেছে বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে লেখক উজ্জ্বল মেহেদীর পরম শ্রদ্ধার গর্ভধারিনী মা-পরিজা করিম তালুকদারকে। এই উৎসর্গের মুখবন্ধে উজ্জ্বল মেহেদী যেভাবে আমাদের প্রিয় খালাম্মার এক নৈসর্গিক বর্ণনা করেছেন,তা কেবল ওই রত্নগর্ভা মায়েরই প্রাপ্য।’অল্প কথায় অনেক কথা বলে ফেলা’তাঁর এই লেখনীর ধরন অনেকাংশে আমাকে স্মরণ করিয়ে দেয় বাংলা সাহিত্যের অভিসংবাদিত সম্রাট কথা’র জাদুকর “হুমায়ূন আহমেদে”র কথা।সেই ভাটির দেশ সুনামগঞ্জের রঙ্গারচর ইউনিয়নের হরিনাপাটি গ্রামে জন্মগ্রহণকারী উজ্জ্বল মেহেদী সহ উনার চার ভাই দুই বোন যে অনাড়ম্বর অথচ অসাধারণ একটি পরিপূর্ণ জীবন যাপন করছেন তা তাদের মায়ের আশীর্বাদ বলেই মনে করি।মা-বাবার কাছ থেকে উপযুক্ত শিক্ষা পেয়েছেন বলেই উজ্জ্বল মেহেদী হতে পেরেছেন সাহসে নির্ভীক- রুচিতে নান্দনিক-চরিত্রে ইস্পাত কঠিন।

তাই আমবাড়ি বাজারের পার্শ্ববর্তী পারিবারিক কবরস্থানের ডালিম গাছের নিচে চিরনিদ্রায় শায়িত আমার খালাম্মার জন্য রইল মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে শত সহস্র প্রার্থনা;তিনি যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউসের উচ্চ আসনে সমাসীন করেন।

“বারকি, জন বারকি “বইটি মূলত তিনটি ভাগে বিভক্ত। প্রথম ভাগের নাম ‘সূত্রপাত’।

এখানে লেখক মেহেদী ‘বারকি’ নৌকা ও এ নৌকার নির্মাতা ‘জন বারকি’ সম্পর্কে তার আগ্রহের সবিস্তার তুলে ধরেছেন।তিনি তার শৈশবের প্রিয়মুখ ছোট চাচা যাকে তিনি ‘রাঙ্গাপুত’ নামে ডাকতেন তাঁর কাছ থেকেই ‘ধরঙবিল’ নামক বিলে ‘বারকি’ নৌকায় পাড়ি দিতে দিতে সর্বপ্রথম এর অমর স্রষ্ঠা ব্রিটিশ নাগরিক ‘জন বারকি’র নাম জানতে পারেন।তারপর থেকেই এই আজব নাও তথা নৌকা ও তার কারিগরকে নিয়ে আগ্রহ দানা বাঁধে সদা জাগ্রত উজ্জ্বল মেহেদীর মানষপটে।কৈশোর আর তারুণ্যের এই অদম্য আগ্রহ যৌবনেও সমানভাবেই তার চিত্তকে টানতে থাকে।পরবর্তীতে সময়ের প্রেক্ষাপটে ও সাংবাদিকতা পেশার শত সহস্র বাঁক-প্রতিবাঁকে তিনি জানতে পারলেন শুধু বারকি নৌকা ই নয় ‘বারকিপুর’ নামে একটা গ্রাম আছে, আছে একটি টিলা ও।তাই নানান কাজে ব্যস্ত থাকলেও একান্তে নিজের ‘মনের ঘরে’ যখন ফিরেন তখনই তার পাশে দেখেন রঙ্গিলা

‘রাঙ্গাপুত’কে।রাঙ্গাপুত নিশিরাতে গহীন হাওরের মাঝে যখন আকাশ ভেঙ্গে জ্যোৎস্না পড়ে তখন লেখক উজ্জ্বল মেহেদীকে বলেন,”বাবা উজ্জ্বল,এই দ্যাখ জন বারকি আমরার নৌকার গুলইয়ে বসে আছে।তুই তার ফরসা হাতটা একটু ধর্ বাবা”।গহীন ঘুমের মাঝেও হাত বাড়ান উজ্জ্বল,কিন্তু সেই হাতটার নাগাল তিনি পান না।সুবহে্ সাদিকের পর ভোরের উজ্জল প্রথম আলোটা তাঁর চোখমুখে পরশ বুলিয়ে দেয়, ঘুম ভাঙ্গে লেখকের।সিদ্ধান্ত নেন যেভাবেই হোক খোঁজে বের করবেন জন বারকিকে,পাকোপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসবেন এক ব্রিটিশ নৌ কারিগরের অজানা জীবন সংগ্রামকে।

আমার আলোচিত বইটির দ্বিতীয় ভাগে মূল জলোপাখ্যানটি’র অবতারণ করা হয়েছে ।মোট ২৫ টি অনুচ্ছেদে বিভক্ত এই উপখ্যানটির কাহিনী।
প্রথম অনুচ্ছেদে আমরা পরিচিত হব লেখক এর ছোট চাচা রাঙ্গাপুতের সাথে। চাচা-ভাতিজার চমৎকার রসায়ন;যা আমাদের অনেককেই ফিরিয়ে নিয়ে যাবে শৈশবের হারিয়ে যাওয়া সেই দিনগুলির অকৃত্রিম প্রিয় মানুষগুলোর কাছে। এই চাচাই জানান ঠিক দিন তারিখের তারিখের হিসাব না থাকলেও প্রায় আড়াইশো বছর আগে এক ইংরেজ লোক বাংলার উত্তর-পূর্বকোণের জলতল্লাটে(জলমহাল এলাকায়) আকস্মিকভাবে হাজির হন। প্রথমে তার প্রতি স্থানীয় লোকজন বিরাগভাজন হলেও পরবর্তীতে এলাকার এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি ইয়ার মিঞার বদান্যতায় তার স্থান হল মিঞাবাড়িতে।এখানে চুন শিল্পে জড়িত শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর তাদের প্রতি অমানবিকতা দেখেই সৃষ্টিশীল নৌ কারিগর বারকির মাথায় নকশা আসে সম্পূর্ণ নতুন ধারার একটি নৌকার ডিজাইন।এরই ধারাবাহিকতায় তিনি চুনাপাথর পরিবহনে ও স্থানান্তরে জাহাজের পরিবর্তে ছোট্ট লম্বা আকৃতির একটি বিশেষ নৌকার প্রবর্তন করেন যা এলাকার লোকজনের কাছে আবিষ্কারকের নামানুসারে “বারকি”নৌকা হিসেবে স্থান করে নেয়।এই বারকি নৌকাই পরবর্তীতে কালের পরিক্রমায় লক্ষ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটায়।

এরপরই গল্পকার আমাদের নিয়ে যান জন বারকির ফেলে আসা ব্যক্তিজীবনে।

সেই ব্যক্তি জীবনে রয়েছেন ‘আলোর উৎস’ বলে স্বঘোষিত, জ্যোতিষ শাস্ত্রে পড়াশোনা জানা এক উচ্ছল নারী;যার নাম ‘আম্রপালি’।

আম্রপালির সাথে জাহাজ জীবনে জন বারকির আদর্শিক মতের মিল না হলেও একপাক্ষিক ভালোবাসার সম্পর্কের বিবরণ আমরা জানতে পারি।
তারপর আমরা আবার ফিরে আসবো জন বারকি’র ‘মিঞা বাড়ি’তে কাটানো সেই কর্মমুখর দিনগুলিতে।

বাড়ির মালিক আশ্রয়দাতা ইয়ার মিয়া একসময় জন বারকির সাথে তার ইয়ারানা তথা বন্ধুত্বকে চিরস্থায়ী করতে প্রস্তাব দেন মেয়ে ফাতিমাকে বধু হিসেবে গ্রহণ করার।তারপর সুপুরুষ ব্রিটিশ নৌকারিগর বারকি কি করলেন তা জানতে হলে উৎসাহী পাঠককে অবশ্যই পড়তে হবে রোমাঞ্চকর জলোপাখ্যান “বারকি,জন বারকি”।

ঘটনার পরিক্রমায় এক সময় পাঠক আবিষ্কার করবে লেখক ব্যক্তি উজ্জ্বল মেহেদীর সাথে উক্ত জলোপাখ্যানের নায়ক জন বারকির অন্যরকম এক অবিকল মিল রয়েছে।তারা দুজনেই বিশ্বাস করেন যে, ‘দুনিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে পরিবার’।তাই শত প্রতিকূলতার মাঝেও আমরা দেখব জন বারকি ছুটে যাবে তার পরিবার তথা স্ত্রী মৈনাক আর সন্তান রিদম-রিদমার কাছে।মৈনাকের স্নিগ্ধতা পূর্ণ শান্তনায়-ভালোবাসায়,আর দুই সন্তান রিদম-রিদমা’র সহচার্যে নতুন করে নবশক্তি নিয়ে শত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে আবারও ঝাঁপিয়ে পড়ে জন বারকি।এখানে বিশেষভাবে আমার কাছে লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে যে রিদম-রিদমা যেভাবে জন বারকিকে;ঠিক তেমনি উজ্জ্বল মেহেদীর দুই বুকের ধন মাহি-মাহদিয়া ও শ্রান্ত-পরিশ্রান্ত ব্যক্তি উজ্জ্বল মেহেদীর প্রাণভোমরা কে পরিপূর্ণ করে রাখে প্রতিনিয়ত।

এরপর আমরা দেখব জন বারকি গোড়াপত্তন করবে তার আজন্ম লালিত স্বপ্নের কারখানা ‘আলোক দুয়ার’।যেখানে সে চাষ করবে তার স্বপ্নের বীজ।

‘মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ’
মতাদর্শে বিশ্বাসী জন বারকি সরলমনে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিবে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী,অসৎ প্রকৃতির দুইজন সহকারি ‘চুতিয়া’ ও ‘নর্দমা’কে যারা পরবর্তীতে তার জন্য বুমেরাং হয়ে উঠবে।

জলোপাখ্যানের ক্রমান্বয়ে পাঠক আবিষ্কার করবেন অষ্টাদশ শতকে ব্রিটিশরা কিভাবে আমেরিকাকে সঙ্গে নিয়ে চীনে আফিম নামক মরন নেশার চোরাচালান শুরু করেছিল।আর আফিমের সবচেয়ে বড় যোগানদার হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল জলপথ অধ্যুষিত শান্তির জনপদ বাংলার উত্তর-পূর্বকোনকে, যা একসময় লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন ‘বাংলাদেশ’এর সুনামগঞ্জ জেলার জাদুকাটা নদীর অববাহিকায় লাউড়েরগড় বারেক টিলা নামে প্রসিদ্ধ হবে।

এরকম অনেক লোমহর্ষক ঘটনা,আর ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাতে দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে যাবে জন বারকি ও তার বারকি নৌকার জলোপাখ্যানটি।
এখানে একটি কথা বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে কাহিনীর প্রয়োজনে যে চরিত্র গুলোর সন্নিবেশ গঠিয়েছেন উজ্জ্বল মেহেদী তার নামকরণে তিনি বিশেষ মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন, যা সচরাচর অন্য লেখকদের বেলায় আমার চোখে পড়েনি।

তিনি কিছু অপ্রচলিত কিন্তু কাহিনীর ‘চরিত্র চিত্রনে অদ্বিতীয়’ এরকম নাম ব্যবহার করেছেন, যেমন:বন্ধু বৎসল ব্যক্তিকে ইয়ার মিয়া;পর্বতের মতো অটল আত্মপ্রত্যয়ী নারীকে মৈনাক;

বাচাল-ধুরন্ধর-কূটকৌশলী ব্যক্তিকে চুতিয়া;অপরিচ্ছন্ন-দুষ্ট -সুদখোর ব্যক্তিকে নর্দমা,বহুরূপী ছদ্মবেশী নারীকে আম্রপালি আর
মমতাময়ী নারীকে ফাতিমা নামকরণের মধ্য দিয়ে।তাছাড়াও পাঠককে আকর্ষণ করবে আলঙঘর- আলঙদার,জলে-জিয়ল,জ্যান্ত-কেওড়,আ্ললড়া-আলোয়ারা,ভার-ভারকি ইত্যাদি অধুনালুপ্ত শব্দ যুগল সমূহ।

পাঠকের হৃদয় কেঁদে উঠবে “ইয়ার,ইয়ারানাবাদ”শীর্ষক অনুচ্ছেদটি পড়ে।

“ফের মিলেঙ্গা ইয়ার- ইয়ারানাবাদ”ছোট্ট সেই বারিকের আদুরে কন্ঠের প্রতিধ্বনি ধ্বনিত হতে থাকবে পাঠকের হৃদয়ে অনন্ত…. অনন্তকাল!ঠিক যেমনি শত প্রাপ্তির পর ও জলোপাখ্যানটির স্রষ্টা উজ্জ্বল মেহেদী এখনো হারিয়ে খোঁজেন জল-জোছনার কবি মমিনুল মউজদীন, প্রিয় মানুষ রাজনৈতিক আদর্শের পথপ্রদর্শক মইনুদ্দিন আহমদ জালাল,কিংবা লেখায়-কথায় জলজোছনার পূজারি সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমানকে যারা অক্ষয়-অমর হয়ে আছেন তাঁর
আত্ম বিনির্মাণে।

“বারকি,জন বারকি” জলজীবিকার জলোপাখ্যানটির তৃতীয় ভাগে বর্ণিত আছে এর ‘আখ্যান সূত্র’।এখানে উজ্জ্বল মেহেদী সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন কিভাবে তিনি বারকি নৌকা ও এর কারিগরের সন্ধানে তার সুদীর্ঘ কর্মজীবনের ২৬টি বছর অতিক্রম করেছেন।

তিনি এ অংশে সংযোজন করেছেন বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় তাঁর প্রকাশিত প্রায় ১৬ টি অনন্যসাধারণ প্রতিবেদন যা ব্যক্তি মেহেদীকে চিনতে সাহায্য করবে বইটির পাঠককে যিনি একজন কলম সৈনিক হয়েও একাধারে একজন পরিবেশ-প্রতিবেশ,জল-প্রকৃতি, নিরন্ন মানুষ ও বিপন্ন প্রাণী প্রেমি অসাধারণ ব্যক্তিত্ব পরিশেষে বইটির পরবর্তী প্রকাশনায় ২-৩টি সংযোজন বিয়োজনের অনুরোধ রাখছি যা করলে হয়তো বইটি আরো সুখপাঠ্য হবে।বইটিতে তৎকালীন সময়ে হাটে ঢোল পিটিয়ে যে রটনা প্রচার করা হত,যা ‘র-কান্ড’নামে পরিচিত তার একটি সচিত্র চিত্র দিলে খুব ভালো লাগতো।তাছাড়া বালক উজ্জ্বল মেহেদী তার প্রিয় রাঙ্গাপুতের সাথে বারকি নৌকায় করে পুবালি বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে এই রকম একটি সচিত্র পরবর্তী প্রকাশনায় সংযোজন করা হবে বলে আশা রাখলাম।এর জন্য নওশীন আজিজ কে ও অগ্রিম ধন্যবাদ জানিয়ে রাখলাম।তবে জলোপন্যাসটির ৫০ এবং ৯৪ পৃষ্ঠার চিত্র গুলো ঠিক আমার বোধগম্য হয়নি।১৫ নং পাতার শুরুতে অনুচ্ছেদটির নাম্বার ‘১’ দিয়ে শুরু করা উচিত ছিল।

আমার জ্ঞানের পরিধি খুবই সংকীর্ণ।”বারকি,জন বারকি” নামক জলজীবিকার জলোপাখ্যানটি নিয়ে কথা বলা ও পর্যালোচনা করার মত যোগ্যতা ও দুঃসাহস আমার নাই।তবে একথা নিশ্চিত করেই জানি,হৃদয় দিয়েই জানি যে এই বইটি ও এর লেখকের সাথে সাথে আমার সম্পর্ক হৃদয় ও আত্মার।শুধুমাত্র পাঠক হিসাবে আমার আত্ম উপলব্ধির প্রকাশ করলাম মাত্র।একটি বইয়ের মূল সৌন্দর্য লেখার মাঝে নয়,লেখকের হৃদয়ের গভীরে লুকায়িত থাকে।তার সে অনুভূতির খুব সামান্যই তিনি উপন্যাসের পাতায় প্রকাশ করতে পারেন।বুদ্ধিমান পাঠক তো সেই,যে উপন্যাসের কালো কালো বর্ণগুলো পাঠকালে লেখকের লেখার আড়াল থেকে ঐ লেখনীর প্রকৃত মর্ম, স্বাদ ও আবেদন অনুভব করতে পারে; লেখকের মনের উত্তাপকে যে গ্রহণ করতে জানে।এখানেই “বারকি,জন বারকি ” এর লেখক উজ্জ্বল মেহেদি সফল ও সার্থক।

পরিশেষে প্রত্যাশা করব তেষ্টায় তড়পানো,সুদীর্ঘ-সুকর্মময় এক আলোকবর্তিকাধারী মহৎপ্রাণ খুঁজে পাবে সদা প্রবাহমান বারকি নৌকারুপী জন বারকিকে জীবনানন্দের এই রূপসী বাংলায়, কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন যে আবার আসিবে কাঁঠাল ছায়ায়।

তায়েফ আহমদ চৌধুরী
চিকিৎসক, সভাপতি-নিনাই সিলেট (মুক্ত চিন্তার সংঘটন)।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি