আবারও বিস্ফোরণের শব্দে কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত

সিলেট ডায়রি ডেস্ক;
  • প্রকাশিত: ৫ এপ্রিল ২০২৪, ৯:০৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২ মাস আগে

মিয়ানমারের গোলাগুলির শব্দে কেঁপে উঠল টেকনাফ সীমান্ত। রাত হলেই সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বেড়ে যায় গোলাগুলি ও মর্টারশেলের বিকট শব্দ; যার কারণে আতঙ্ক বাড়ে সীমান্তবাসীর।

নাফ নদীর তীরবর্তী সীমান্তের ওপারে রয়েছে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির ঘাঁটি। একটি-দুটি নয়; রয়েছে অসংখ্য ঘাঁটি। এসব ঘাঁটি দখলে নিতে মরিয়া দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। যার জন্য দেড় মাসের বেশি সময় ধরে মিয়ানমারের রাখাইনে বিজিপির সঙ্গে আরাকান আর্মির সংঘাত চলছে।

টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনছিপ্রাং, ঝিমংখালী, খারাংখালীর হ্নীলা ইউনিয়ন, সাবারাং ইউনিয়ন এলাকায় ওপারে মিয়ানমারের ভেতর আজ (শুক্রবার) সকাল থেকে মুহুর্মুহু গুলির আওয়াজ ভেসে আসছে এ পারে। নিয়মিত বিরতিতে শোনা যাচ্ছে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ।

টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়ার সীমান্তের বাসিন্দা মো. ইদ্রিস জানান, সকালে তিনি বাড়ির উঠানে বসে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ শুনে ভয় পেয়ে বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়েন। বিস্ফোরণের শব্দে মাটি কেঁপে ওঠে। পরে বুঝতে পারেন মিয়ানমারে বিস্ফোরণ হয়েছে।

সীমান্তে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে সীমান্ত থাকা চিংড়ি চাষিরা বলছেন, বিকট বিস্ফোরণের শব্দ তাদের কাছে এখন স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

উনছিপ্রাং এলাকার বাসিন্দা জুলফিকার আলী বলেন, ভোর থেকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ব্যাপক গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। তবে এখানকার মানুষ স্বাভাবিক দিনের মতো কাজে ফিরেছেন।

হোয়াইক্ষং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ আনোয়ারী বলেন, শুক্রবার ভোর ৫টা থেকে মিয়ানমার থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসছে। তবে শব্দগুলো স্থানীয়দের কাছে এখন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলী বলেন, কয়েক দিন সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত ছিল। গতকাল বেশ কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও আজ ভোর থেকে একটু বেশি হচ্ছে। তবে সীমান্তের বাসিন্দাদের মধ্যে এর তেমন প্রভাব পড়েনি।

টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী বলেন, কিছুদিন বন্ধ থাকার পর রাখাইনে নতুন করে গোলাগুলি ও মর্টারশেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে। আজ সকাল থেকেও মর্টারশেল, গ্রেনেড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

হোয়াইক্যং ও হ্নীলা সীমান্তের পূর্ব দিকে মিয়ানমারের বলিবাজার, শিলখালী, নাফপুরা গ্রামে সংঘাতময় পরিস্থিতির খবর পেয়ে এপারে টেকনাফের হোয়াইক্যং থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত ৫৪ কিলোমিটার নাফ নদীতে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের টহল বাড়ানো হয়েছে।

টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাখাইনের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি